এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,১৩ জানুয়ারী : স্যার রাসবিহারী ঘোষ (জন্ম ২৩ ডিসেম্বর ১৮৪৫ – মৃত্যু ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯২১) ছিলেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং লোকহিতৈষী । জীবনের কোনও পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি। অধ্যাপনা দিয়ে শুরু হয়েছিল পেশাগত জীবন। তারপর বিশ শতকের গোড়ার দিকে সম্পূর্ণভাবে আইনি পেশায় চলে আসেন। তাঁর সহকারী ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় থেকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ প্রমুখ বিখ্যাত ব্যক্তত্বরা । আইনজীবী হিসেবে সেই আমলে অন্যদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পারিশ্রমিক নিতেন রাসবিহারী ঘোষ। আর উপার্জনের সিংহভাগই খরচ করতেন বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতিকল্পে।
বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে নরমপন্থী-চরমপন্থী বিভাজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন রাসবিহারী। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ স্কুল-কলেজ থেকে বিতাড়িত পড়ুয়াদের জন্য বিকল্প শিক্ষাদানের ব্যবস্থাও করেছিলেন। কার্যত তাঁর চেষ্টাতেই টিকে ছিল বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট।মৃত্যুর আগে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা দান করে যান কারিগরি শিক্ষার উন্নতি কল্পে। সেই অর্থেই ১৯২২ সালে যাদবপুরে ৩৩ একর জমিতে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটকে স্থানান্তরিত করা হয়। নতুন নাম হল কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি। আজ সেটিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই চেনে গোটা বিশ্ব।
রাসবিহারী ঘোষ ২৩ ডিসেম্বর ১৮৪৫ সালে বাংলার প্রেসিডেন্সি পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রত্যন্ত খণ্ডঘোষ গ্রামে হয়েছিল। পরে উনি ওনার মামাবাড়িতে তোড়কোনা গ্রামে প্রারম্ভিক জীবন শুরু করেন ।কিন্তু এমন মহান বাঙালির জন্মভিটে দশকের পর দশক ধরে অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে । কঙ্কালসার বাড়িতে নেই দরজা, জানালা । সামনের মাঠে গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ । দেওয়ালের গায়ে সারি সারি ঘুঁটে । বাড়ির গা বেয়ে উঠেছে আগাছা । সাপখোপের উপদ্রপ ও ছাদের চ্যাঙড় খসে পড়ার ভয়ে কেউ পারতপক্ষে ভিতরে ঢোকে না । চুড়ান্ত অবহেলার মাঝে উন্মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বীর বাঙালির ঐতিহাসিক বাড়িটি । স্থানীয় বাসিন্দারা সেই বামফ্রন্টের সময় থেকে বাড়িটির সংস্কার ও হেরিটেজ ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন । অবশেষে তাদের সেই দাবিপূরণ হতে চলেছে ।
আজ মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন জানিয়েছে,পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষের তোরকোনায় স্যার রাসবিহারী ঘোষের বাসভবনের সংস্কার ও সংরক্ষণের প্রাথমিক পর্বের কাজ শুরু হয়েছে । ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল ভবনটি চুনসুরখি, কাদি ও বার্গা পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছিল । বিভিন্ন ধরণের খিলান খোলার ব্যবস্থা সহ প্যারাপেটগুলিতে পোড়ামাটির কলশ শৈলী দিয়ে নির্মিত ।
জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্যার রাসবিহারী ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সহায়তায় জমিটি সফলভাবে সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন বর্ধমান বিভাগের পিডব্লিউডিকে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরির কাজ অর্পণ করেছে।আজ প্রথম জরিপ করা হয়েছে এবং একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকাশনের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার বাসিন্দারা ।।

