এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ জানুয়ারী : নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ হুগলি জেলার উত্তরপাড়া থানার পুলিশ দীপঙ্কর অধিকারী নামে তৃণমূলের এক যুবনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে । এছাড়াও এই ঘটনায় আরও দু’জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে৷ পুলিশ তাদের সন্ধান করেছে ৷ এদিকে ধৃত তৃণমূলের যুবনেতাকে “তৃণমূলের দামাল সম্পদ” বলে অবিহিত করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । যদিও তৃণমূলের দাবি, দীপঙ্করের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই৷ তবে জেলার তাবড় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ধৃতের কয়েকটি ছবি এক্স-এ পোস্ট করেছেন শুভেন্দু । তিনি লিখেছেন,তৃণমূল মানেই ধর্ষক!!!এবার উত্তরপাড়ায় এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার হল তৃণমূল নেতা দিলীপ যাদব ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের যুবনেতা দীপঙ্কর অধিকারী। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বদান্যতায় মা বোনেদের নিরাপত্তা শিকেয় উঠেছে। তৃণমূলের “লাল চুল কানে দুল” মার্কা সব “দামাল” সম্পদদের হাতে রাস্তাঘাট থেকে শিক্ষাঙ্গণ কোথাও মেয়েদের সুরক্ষা নেই। পরিস্থিতি এমন’ই যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলার মেয়েদের রাত আটটার পর বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের এই নারকীয় পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে, মা বোনেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই সরকারকে উৎখাত করা প্রয়োজন।”
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরীর বয়স ১৬ বছর ৷ ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতে । মেয়েটি টিউশন শেষে বাড়ি ফিরছিল৷ তার সঙ্গে আরও দুই বন্ধু ছিল৷ তখন তাদের পথ আটকায় দীপঙ্কর অধিকারী৷ দীপঙ্করের সঙ্গে ছিল আরও দু’জন যুবক৷ প্রথমে ওই কিশোরী ও তার বন্ধুদের ছবি তোলার চেষ্টা করে দীপঙ্কর৷ প্রতিবাদ করলে নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার বলে পরিচয় দেয় দীপঙ্কর৷ ওই কিশোরী ও তার বন্ধুদের জোর করে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা ৷এর পর জোর করে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত শৌচাগারে কিশোরীকে নিয়ে যায় দীপঙ্কর৷ সেখানেই তার উপর যৌন নির্যাতন চালায়৷ তার পর সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে ৷ এর পর ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার উপর ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত ঘটনার কথা কাঁদতে কাঁদত্ব খুলে বলে ওই কিশোরী৷ সঙ্গে সঙ্গে তার মা ঘটনাস্থলে ছুটে যান৷ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি৷ পরে উত্তরপাড়া থানায় গিয়ে দীপঙ্কর ও তার সঙ্গে থাকা দুই যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা কিশোরী ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইন-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ৷ পরে বাড়ি থেকেই দীপঙ্করকে গ্রেফতার করা হয় ৷ যদিও বাকি দু’জনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷ এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও নারাজ পুলিশের আধিকারিকরা ৷
জানা গিয়েছে, দীপঙ্কর অধিকারী এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত৷ শাসক দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে অংশ নিতেও দেখা গিয়েছে একাধিক বার ৷ তার সঙ্গে তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রীর ছবিও রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ৷ এর আগে হিন্দমোটরোর এক মাছ ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে ৷ সেই সময় দীপঙ্কর নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। সেই হুমকির অডিয়ো ভাইরাল হয়ে গেলে বেজায় অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল ৷ এবারে বিধানসভার ভোটের মুখেই দলের যুবনেতার এহেন ন্যাক্কারজনক কান্ডে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল শিবির ।।

