এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ জানুয়ারী : কয়লা পাচার মামলায় বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকে নিয়ে আচমকা হানা দেন । তারা ইডির হেফাজত থেকে বেশ কিছু হার্ডডিস্ক ও ফাইল “লুট” করেন বলে অভিযোগ । বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি)। এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন রাজ্যের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস । তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে একটা সাংবিধানিক সংস্কার সঙ্গে এহেন গর্হিত কাজ করার পর মমতা ব্যানার্জির কোনো সংবিধানিক পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই ।
রাজ্যপাল বলেছেন,’ইডি-র আইপ্যাকের অবস্থানে অভিযান সংঘাতের বিষয়ে সাধারণ মানুষ আমার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন । আইনজীবীরাও এই বিষয়ে আমার কাছে নানান অভিযোগ জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা মূলত তিনটি আইনি বিষয় তুলে ধরেছেন । প্রথমতঃ, কোনও সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়াটা হল ফৌজদারি অপরাধ। দ্বিতীয়তঃ, সরকারি কর্মচারীকে কাজ করার সময় হুমকি দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। এক্ষেত্রে ২ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে । অথবা দুটোই হতে পারে। তৃতীয়তঃ, সাংবিধানিক পদাধিকারীদের কাজ সংবিধানকে রক্ষা করা। তিনি সংবিধানকেই যদি অস্বীকার করেন, তাহলে তাঁর সেই পদে থাকার অধিকার নেই।’ রাজ্যপাল আরও বলেছেন,’এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছি। রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে সঠিক পদক্ষেপ নেব ।’
বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যাওয়া ইডির জিম্মা থেকে “ফাইল ছিনতাই” করে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে ইডি । শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই মামলার শুনানি ছিল । কিন্তু বিপুল সংখ্যক তৃণমূলের লোকজন ও তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা নজিরবিহীন কান্ড ঘটায় । তাদের হইহট্টগোলের কারনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জেরে আইপ্যাক মামলার শুনানি (I-PAC Case Hearing) না করেই এজলাস ছাড়তে বাধ্য হন ক্ষুব্ধ বিচারপতি।চরম ক্ষোভের সঙ্গে তিনি আসন ছেড়ে উঠে যান। ফলে বহুল চর্চিত এই মামলার শুনানি পিছিয়ে যায় আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। মামলার শুনানি যাতে না হয় সেজন্য তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে ।।

