এইদিন ওয়েবডেস্ক,বেঙ্গালুরু,০৯ জানুয়ারী : প্রতিবেশী চায়ের দোকানদারের সঙ্গে মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল । প্রথমে ওই চা’বালার সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন মা । কিন্তু পরে যখন তিনি জানতে পারেন যে মেয়ের প্রেমিক মদের নেশায় আসক্ত,তখন তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠেন । আর এই অপরাধের কারনে প্রেমিকার মা’কে জীবন্ত পুড়িয়ে মারাল প্রেমিক । ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর বাসভেশ্বরনগরে । মৃতার নাম গীতা (৪০) । এই ঘটনায় ঘাতক মুথু অভিমন্যুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । ধৃত যুবক আবার মৃতার শ্বশুর বাড়ির সম্পর্কে আত্মীয়।
জানা গেছে,তামিলনাড়ুর বাসিন্দা গীতা বেশ কয়েক বছর ধরে তার মেয়ের সাথে সানেগুরুভানাহল্লিতে বসবাস করছিলেন। তিনি তার বাড়ির কাছে একটি ছোট মুদির দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অন্যদিকে মুথু অভিমন্যু একই এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালান। তার সঙ্গে গীতার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল । গীতা প্রথমে এই সম্পর্কে স্বীকৃতি দিয়ে বিয়েতে রাজি হলেও, পরে মুথুর মদ্যপানের অভিযোগের কথা জানতে পেরে তিনি তার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন । আর এতে চরম ক্ষিপ্ত হয় মুথু।
জানা গেছে,ঘটনাটি ঘটে গত ২৩শে ডিসেম্বর রাতে । গীতা ও মুথুর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক হয় । যদিও পরে গীতা খাওয়া দাওয়ার পর যথারীতি ঘুমিয়ে পড়েন । আর এই সুযোগে মুথু তার উপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা গীতার আর্ত চিৎকার শুনে তাকে সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন এবং ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন । তার শরীরের ৫০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে যাওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গীতা মঙ্গলবার রাতে মারা যান ।
এদিকে প্রথমে হত্যার চেষ্টার মামলায় মুথু অভিমন্যুকে গ্রেপ্তার করে বাসভেশ্বরনগর থানার পুলিশ । পরে গীতার মৃত্যু হলে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগটি হত্যার অভিযোগে পরিবর্তন করে । মামলার আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ।।

