এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৮ জানুয়ারী : আজ বৃহস্পতিবার চুড়ান্ত নাটকীয়তা দেখা গেল রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় । কয়লা পাচার মামলায় ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়ি ও আইপ্যাকের অফিসে ইডির (ED raid I-PAC) হানাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির দেখা যায় । প্রতীক জৈনের ৭ নম্বর লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে যখন তল্লাশি শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা, তখনই নজিরবিহীনভাবে সেখানে পৌঁছন সিপি মনোজ ভর্মা। আর তার ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশির মাঝেই সোজা ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে।কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একটা সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন মমতা । এছাড়া অফিস থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ ফাইল নামিয়ে একটা রহস্যময় SUV গাড়িতে হয় । ইডির তল্লাশির মাঝেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারের এহেন সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে৷
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণকে “অনৈতিক, অসাংবিধানিক, কেন্দ্রীয় তদন্তে সরাসরি বাধা দান” বলে অবিহিত করেছেন । তিনি বলেছেন,’রাজিব কুমারের বাড়িতে রেইড হওয়ার সময়ও মুখ্যমন্ত্রী এই কাজ আগেও করেছেন । তিনি নিজাম প্যালেসে ৫ ঘন্টা ধর্না দিয়েছেন ।’ শুভেন্দু বলেন,’মউখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনার কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন। এটি অনৈতিক ও অসাংবিধানিক।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে রাজীব কুমার ও ফিরহাদ হাকিমের বেলাতেও মুখ্যমন্ত্রী একই আচরণ করেছিলেন। শুভেন্দু বলেন,’বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। ইডির উচিত মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা ।’ লকেট চ্যাটার্জি বলেছেন,’আইপ্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । কয়লা পাচার মামলায় সকাল থেকে লাউডন স্ট্রিটের আবাসনে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। সিপি মনোজ ভর্মা প্রতীকের বাড়ি যাওয়ার পরেই সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁচানোর প্রচেষ্টায় অনেকটাই মরিয়া মাননীয়া ।’
প্রসঙ্গত,আইপ্যাক মূলত আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালাইসিস, এবং সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলীর কাজ করছে এই বেসরকারি সংস্থাটি । কয়লা পাচার মামলায় ইডির হানার পরপরই তল্লাশির খবর পেয়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ কমিশনার। সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-কে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “ইলেকশন সংক্রান্ত আমাদের গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই এই হানা। বিজেপি দেশের সবথেকে বড় ডাকাত।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমি যদি আজ বিজেপি অফিসে হানা দিই, তবে কেমন লাগবে?” যদিও প্রতিহিংসার অভিযোগ উড়িয়ে শুভেন্দু পাল্টা বলেন, “আমার বাড়িতে সিআইডি পাঠিয়ে প্রবীণ বাবা-মাকে হেনস্তা করা হয়েছে, ওনার মুখে এসব কথা মানায় না।”
ইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে ফাইল ‘ছিনতাই’ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক । উল্লেখ্য,২০১৯ সালে রাজীব কুমারের বাংলোয় সিবিআই হানার সময় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ধর্নায় বসেছিলেন, ৬ বছর পর আইপ্যাক কাণ্ডে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তিনি । নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতকে এক চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে ।।

