এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৩ জানুয়ারী : শাহরুখ খানের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি, কলকাতা নাইট রাইডার্স(কেকেআর), ২০২৬ সালের লিগের আগে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে, মুস্তাফিজুর রহমান ক্রমাগত প্রতিবাদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, যার ফলে বিসিসিআই কেকেআরকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কেকেআর নিলামে ৯.২০ কোটি টাকা (প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার) দিয়ে ৩০ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি পেসারকে কিনে নেয়।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া পিটিআইকে বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর আলোকে, বিসিসিআই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কেকেআরকে মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের দল থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একবার তাকে মুক্তি দেওয়া হলে, কেকেআর থেকে যদি কোনও অনুরোধ আসে, বিসিসিআই তা বিবেচনা করবে এবং একজন প্রতিস্থাপন খেলোয়াড় সরবরাহ করবে।”
এদিকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করলেন হিন্দু বিদ্বেষী ইসলামপন্থী লেখিকা সাবা নাকভি । তিনি এনিয়ে লিখেছেন,’আমাদের ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আছেন, সেই দেশের জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা, আমরা সবসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ঐতিহাসিক ভূমিকা দাবি করে আসছি। কিন্তু আজ আমরা এতটাই নীচ যে আমরা সেই দেশের একজন ক্রীড়াবিদকে বাণিজ্যিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলতে দিতে পারি না। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের কোনও নৈতিক মর্যাদা অবশিষ্ট থাকবে না। এবং আমরা এই জঘন্য অসভ্য স্ক্রিপ্টটি বেছে নিচ্ছি যা কোনও বৃহৎ শক্তি/সভ্যতার জন্য উপযুক্ত নয় কারণ দুটি রাজ্য নির্বাচন আসন্ন যেখানে আমরা সমস্ত সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশী বলে গালি দিতে চাই। মিথ্যা কথা বলা হিন্দুত্ববাদী কট্টরপন্থীরা এখন আমাদের মহান জাতির পথ নির্ধারণ করছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্ব যে নৈতিক শক্তির প্রশংসা করেছিল তা থেকে কী পতন… আশা করি আমরা এটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করব।’
প্রসঙ্গত,বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান সাম্প্রদায়িক হিংসার মধ্যে আইপিএলে রহমানের ক্রয়ের প্রতিবাদ করা হয়েছিল। গল্পকার দেবকিনন্দন ঠাকুর সহ বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ তার ক্রয়ের বিরোধিতা করেছিলেন। শাহরুখ খানের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি, কলকাতা নাইট রাইডার্স(কেকেআর), তাকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে এমন একটা সময়ে কিনেছিল, যখন ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৭ বছরের হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্মনিন্দার মিথ্যা অভিযোগে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় । কিন্তু ইসলামপন্থী সাবা নাকভি তখন বাংলাদেশি জিহাদিদের বিরুদ্ধে একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি । এখন যখন তার সম্প্রদায়ের একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে বিদেয় করা হচ্ছে তখন তার জাত্যাভিমানে আঘাত লাগছে ।।

