প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০২ জানুয়ারী : রাজ্যের ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (Special Intensive Revision) শুরু হতেই প্রবল বিরোধিতায় নেমেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস । বিএলও থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের র্যাডারে থাকা সন্দেহভাজন ভোটারদের মৃত্যুর ঘটনার দায় এসআইআর-এর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে । ফের এমনই একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখা গেল পূর্ব বর্ধমান জেলায় । আসলে জেলার বৈকন্ঠপুর-২ নম্বর অঞ্চলের অন্তর্গত রায়নগর এলাকায় প্রৌঢ়া ফুলমালা পাল (৫৭)-এর মৃতদেহ আজ শুক্রবার সকালে বাড়ির অদূরে রেল লাইন থেকে উদ্ধার হয় । যেহেতু ওই প্রৌঢ়াকে এসআইআর(SIR) এর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল তাই বিষয়টি যথারীতি এসআইআর-এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে । মৃতার পরিবার দাবি করেছে যে ফুলমালাদেবী আতঙ্কে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন । পরিবারের সুরে সুর মিলিয়ে তৃণমূলও এসআইআর-কে কাঠগড়ায় তুলছে । যা ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির তর্জা তুঙ্গে উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ।
জানা গেছে, বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকার রায়নগর গ্রামের বাসিন্দা ফুলমালাদেবীর স্বামী ও ছেলের নাম এসআইআর (SIR) এর খসড়া ভোটার তালিকায় থাকলেও ফুলমালাদেবীর নাম তালিকায় ছিল না । এছাড়া,২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও নাম ছিল না তার । এজন্য ফুলমালাদেবীকে শুনানিতে ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন । আগামী ৫ জানুয়ারি শুনানিতে হাজির হওয়ার কথা । কিন্তু আজ শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে রেল লাইন থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হতেই তোলপাড় পড়ে যায় ।
মৃতার স্বামী সুনীল পালের কথায়,নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ভারত থেকে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়ায় হবে ,এমন আতঙ্ক ফুলমালাদেবীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল । সেই আতঙ্কের কথা বাড়ির লোকজনকে জানিয়েও ছিলেন। সুনীল পাল বলেন, এসব কিছু যে হবে না ,সেই কথা আমি আমার স্ত্রীকে জানিয়ে ছিলাম। তবুও আমার স্ত্রী দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারেন নি। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে রেল লাইনে গিয়ে তিনি চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্নহত্যা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্ধমান জিআরপি রেল লাইন থেকে ফুলমালাদেবীর মৃতদেহ উদ্ধার করে এদিনই ময়নাতদন্তে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে তার মৃতদেহ বাড়িতে আনা হয় ।’
এদিকে এই মৃত্যুর খবর চাউর হতেই বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়ে । মৃত্য নিয়ে শুরু হয়ে যায় তৃণমূল ও বিজেপির চাপানউতোর। তারই মধ্যে সমবেদনা জানাতে বর্ধমান উত্তর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক এবং তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি রাসবিহারী হালদার সহ দলের অন্য নেতা- কর্মীরা ফুলমালাদেবীর বাড়িতে পৌঁছে যানা। রাসবিহারী হালদার ও নিশীথ মালিক দু,জনেই কার্যত একই সুরে এদিন ফুলমালাদেবীর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশশনের লাগু করা এসআইআর কেই দায়ী করেন।তারা এও দাবি করেন,এসআইআর বঙ্গের একের পর এক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে!
যদিও জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, ‘এসআইআর আতঙ্কে নয়,ফুলমালাদেবী আত্নহত্যা করেছে পারিবারিক কারণে ফুলমালাদেবীর জামাই ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য।তিনিই ফুলমালাদেবীর মৃত্যুর কারণ এসআইআর আতঙ্ক বলে চালাতে চাইছেন!।রাজনীতি করার জন্যই ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে ফেরা মুলমালাদেবীর মৃতদেহ রাস্তায় রেখে তৃণমূলের লোকজন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলেছে।’।

