এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০২ জানুয়ারী : ভোটার তালিকায় কারচুপি করা ৪ আধিকারিক ও ১ কর্মীর বিরুদ্ধে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও দ্রুত এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন । ময়না ও বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ৪ আধিকারিক ও ১ কর্মীর বিরুদ্ধে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । তারা হলেন : দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর পূর্ব এসি-এর ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী,বারুইপুর পূর্ব এসি -এর জয়নগর-২ ব্লকের এইআরও তথাগত মন্ডল, ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার,ময়না এসির এইআরও সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্ব এসির ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদার ।
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশ, এই নির্দেশকে ঘিরে বেশ কয়েক মাস আগে, কিন্তু তোলপাড় হয়েছিল। যেখানে তৎকালীন মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল দিল্লির নির্বাচন কমিশনে। এবং অবশ্যই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার যে ইআরও এবং এইআরও যারা ছিলেন, এবং একজন ডেটাএন্ট্রি অপারেটর ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কিন্তু সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্যকে। কিন্তু তারপর দেখা যায় মুখ্যসচিব যখন দিল্লিতে যান, দিল্লি থেকে ফিরে আসার পর তাঁদের সাসপেন্ড করা হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে, এফআইআর করা হয়নি।
এরপর আজ শুক্রবার(২ জানুয়ারী) কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্রের নির্দেশে বলা হয়েছে, কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে ক্রমিক নং ১-এ উল্লিখিত কর্মকর্তাদের স্থগিত করা হোক এবং তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের সাথে লগইন শংসাপত্র ভাগ করে ডেটা সুরক্ষা নীতি লঙ্ঘনের জন্য এফআইআর দায়ের করা হোক। দেখা গেছে যে রাজ্য সরকার ২০.০৮.২০২৫ তারিখে এই কর্মকর্তাদের স্থগিতাদেশ কার্যকর করলেও, এফআইআর নিবন্ধন সংক্রান্ত নির্দেশ আজও অমান্য রয়ে গেছে।
আরও লেখা হয়েছে,উপরোক্ত বিষয়গুলির পরিপ্রেক্ষিতে, আপনাকে এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা যেন ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ ধারা এবং ২০২৩ সালের ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ২০০০ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইনের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুসারে উক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর নিবন্ধন নিশ্চিত করে। এই এফআইআর নিবন্ধন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কমিশনে উক্ত এফআইআর নিবন্ধনের বিষয়ে একটি সম্মতি প্রতিবেদন জমা দিন।
রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি ও কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তরুনজ্যোতি তিওয়ারি নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন,’সাবাস নির্বাচন কমিশন। অবশেষে ভোটার তালিকায় কারচুপি করা চার বিসিএস অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কোনও নথি ছাড়াই এই অফিসারেরা শয়ে শয়ে ভোটারের নাম তুলেছিলেন। এখন SIR এর শুনানি পর্ব চলছে। অফিসারেরা সতর্ক থাকুন। ভুল নথির ভিত্তিতে নাম তুলে দিলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। শুদ্ধ ভোটার তালিকা হলেই পরিশুদ্ধ ভোট হতে পারে।’।

