এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০২ ডিসেম্বর : ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে এসে হেরে যাওয়ার পর থেকে নব্য-পুরনো তত্ত্ব মূলত দিলীপ ঘোষই আমদানি করেছিলেন বলে অভিযোগ । তারপর থেকে বিজেপির অন্দরেই বিস্তর কাদা ছোড়াছুড়ি হয়েছে ৷ এছাড়া, ২০১৯ সালের থেকে ২০২৪ সালে বঙ্গ বিজেপির আসন কমায় “নব্য”দের প্রতি আরও আক্রমণাত্মক দেখা যায় “আদি”দের । পরবর্তী সময়ে “নব্য-আদি তত্ত্ব”-এর উদ্গাতা নিজেই কোনঠাসা হয়ে পড়লে কিছু সময় বিরোধের বিরাম ঘটে৷ কিন্তু দলের অভ্যন্তরে বিভেদ থেকেই যায় । দু’দিনের বঙ্গ সফরে এসে দলের অভ্যন্তরে এই দুরত্ব কমাতে মূলত উদ্যোগী হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ । মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা হলো বঙ্গ বিজেপির একদা ‘পোস্টার বয়’ দিলীপ ঘোষকে। সেই সাথে অমিত শাহ যে নতুন ১৫ জনের কোর গ্রুপ গড়ে দিয়েছেন তাতেও রাখা হয়েছে দিলীপ ঘোষকে । আর এরপরেই দিলীপের জন্য সল্টলেকে বিজেপি দফতরে একটি ঘর বরাদ্দ করলেন বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ।
সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী আর দিলীপ ঘোষ— এই তিন ভিন্ন মেরুর নেতৃত্বকে একই টেবিলে বসিয়ে শাহ যে বার্তা দিয়ে গেছেন, তা হলো ‘যৌথ নেতৃত্ব’। বঙ্গ বিজেপির ট্র্যাডিশনাল ‘আদি’ বিজেপি এবং তৃণমূল থেকে আসা ‘নব্য’ বিজেপির মধ্যে যে অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে ফেলাই এখন শাহের প্রধান লক্ষ্য । যার ইঙ্গিত সম্প্রতি কলকাতায় অটল বিহারী বাজপায়ীর জন্মজয়ন্তীতে দলীয় কর্মসূচিতে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী । তিনি তৃণমূলকে হারাতে দলের নেতাকর্মীদের “আমি নয় আমরা” হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন ।
এদিকে শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর ফের স্বমহিমায় দেখা যাচ্ছে দিলীপকে। দিলীপ ঘোষ বলছেন, অমিত শাহর নির্দেশে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি । শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণাত্মক মেজাজ, সুকান্ত মজুমদারের একাডেমিক ইমেজের সঙ্গে দিলীপের সাংগঠনিক শক্তি এক হলে তৃণমূলকে সরানো শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন অনেকে । এখন দেখার বিষয় যে দলের অভ্যন্তরে চলা “আদি-নব্য” দ্বন্দ্ব ভুলে কতটা “আমরা” হয়ে উঠতে পারে গেরুয়া শিবির ৷।

