এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,০২ জানুয়ারী : গতকাল সন্ধ্যায় মালদা শহরে দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মালদা জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেছিলেন,’বিজেপি শাসিত রাজ্যে মালদার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা বন্ধ না হলে কি করে তুমি মালদার মাটিতে পা রাখো আমি দেখে নেবো । আমি তোমায় চ্যালেঞ্জ করছি ।’ আজ শুক্রবার মালদার চাঁচলে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র জনসভায় আব্দুর রহিম বক্সিকে পালটা চ্যালেঞ্জ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘তোর বাপের নাম যদি ঠিক থাকে কলমবাগানে আয়, দাঁড়িয়ে আছি ৷’
কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে আজ চাঁচলের কলমবাগান মাঠে বিশাল জনসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী । বেলা ২টা নাগাদ তিনি সভাস্থলে পৌঁছতেই তাকে ঘিরে বিজেপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় । আদালতের অনুমতি নিয়ে সভা করতে হওয়ায় স্থানীয় থানার আইসি ও শাসকদলকে তুলোধুনো করেন বিরোধী দলনেতা । পাশাপাশি মালদার মাটিতে পা রাখতে না দেওয়ার বিষয়ে আব্দুর রহিম বক্সির হুমকির পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন,’বড় বড় কথা । ছ ফুট লম্বা । এখানকার মুখ্যমন্ত্রী মনে করে নিজেকে । রহিম বক্সি । বড় বড় কথা । ঢুকতে দিবো নি । গাছে বেঁধে রাখবো । পা ভেঙে দিব । মাথা গুঁড়িয়ে দেব । তোর বাপের নাম যদি ঠিক থাকে কলমবাগানে আয়, দাঁড়িয়ে আছি ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’আরএসপি-এর মাল ছিল । আইসিডিএস এর চাকরি বিক্রি করতো । আর আমি এখানকার তৃণমূলের অবজারভার যখন ছিলাম তখন আমার গাড়ির দরজা খুলত । কেউ নেবে না । তৃণমূলের এখানে যারা নেতা ছিল হামিদ ভাই, মালতিপুরের ইন্দাত ভাই,রফিকুলদের কেউ নেবে না । বলছে ‘ঐ মালটা চোর দাদা একে নেবেন না’ । দেড় বছর ধরে গাড়ির দরজা খোলে আর বন্ধ করে । বড় বড় কথা! ওর থেকে ওর ব্যাটার আবার বড় বড় কথা ।’
তিনি আরও বলেছেন,’আমি বলে গেলাম, আমি সিপিএমের আমলের লক্ষণ শেঠকে হারানো, আর তৃণমূলের সূর্য যখন মধ্য গগনে সেদিন নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জিকে হারানোর লোক । মালতিপুরে কে জিতবে আমি জানিনা । কারণ হিন্দুদের সংখ্যা কম, ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হবে বড়জোর । কিন্তু রহিমকে আমি জিততে দেব না৷ আমি আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম । আমি প্রতাপ সিনহা এবং শংকর চক্রবর্তীদের কলকাতায় ডাকব । বলে দেবো কিভাবে এদের সমূলে উৎপাটিত করতে হয় ।’
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে পশ্চিমবঙ্গের ভারতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে বিরোধী দলনেতা বলেন,’যারা মমতা ব্যানার্জীর হয়ে এখানে বাজনা বাজান,রহিম বক্সি, তাজমুল হোসেন, বৃদ্ধ সমর মুখার্জী, আর এখানে তো পরিযায়ী এমএলএ নিহার চন্দ্র ঘোষ । উত্তর দিতে পারবেন ? পারবেন না । মোথাবাড়িতে হিন্দু দোকান, ঘর লুট । ধুলিয়ান, শামসেলগঞ্জে আগুন । কার স্বার্থে করেছিলেন আপনারা ? এ জিনিস বন্ধ করতে হবে পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা পশ্চিমবঙ্গের শান্তি চাই । এই পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কেও দয়া করে দেয়নি। এটা বাঙালি হিন্দুদের হোম ল্যান্ড । হ্যাঁ আমরা স্বামীজীর ভক্ত । ১২ই জানুয়ারি স্বামীজীর জন্মদিন পালন করব । স্বামীজি আমাদের শিখিচ্ছেন নিজে ধর্মে আস্থা রাখো উপর ধর্মকে শ্রদ্ধা কর । কিন্তু আপনারা অতীতটা ভুলে যাবেন না ।’
তিনি বলেন,’১৯৪৭-এ দেশভাগের আগে মহম্মদ আলী জিন্নাহ ইংরেজ এবং কংগ্রেসের নেতাদের বলেছিলেন কলকাতা সহ অবিভক্ত বাংলা আমাকে পাকিস্তানে দিতে হবে । রুখে দাঁড়ালেন দুইজন । একজন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং আর একজন ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দ । তারা বললেন আমরা বাঙালি হিন্দু বেশি থাকি, পশ্চিমবঙ্গ দেবনা । ইংরেজরা বলল আইন সভায় যাও, ভোট করো৷ বেশিরভাগ যার দিকে আমরা সেই সিদ্ধান্ত নেব । ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বিধানসভায় প্রস্তাব আনলেন যে আমরা ভারতে থাকবো৷ ১৯৪৭ সালের ২০ শে জুন আটান্ন জন হিন্দু আইনসভার সদস্য ভোট দিলেন ভারত ভুক্তির পক্ষে । ২১ জন মুসলিম আইনসভার সদস্য ভোট দিলেন পাকিস্তান ভুক্তির পক্ষে । আমরা বাংলার মানুষ থেকে গেলাম ভারতে ।’
তিনি আরও বলেছেন,’আর মালদা মুর্শিদাবাদ নদিয়ার একটা বড় অংশ ১৫ ই আগস্ট আমরা পাইনি । ১৭ই আগস্ট পেয়েছিলাম।আরো দুদিন পরে । ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী কৃষ্ণনগরের তৎকালীন রানী মা আর গৌড়বঙ্গের যারা শাসক ছিলেন তারা ছিনিয়ে এনেছিলেন । তারপরে আজকে বড় বড় কথা !’আজ মালদা উত্তরের চাঁচলে জনসভার পর পাহাড়পুর মা দুর্গা চণ্ডী মন্দির পর্যন্ত পদযাত্রা করেন শুভেন্দু অধিকারী৷ পাশাপাশি দেবীর কাছে পূজো দেন৷ কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী তাতে সামিল হয় ।।

