উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর কাশী কেবল একটি আধ্যাত্মিক শহর হিসেবেই নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু নববর্ষের দিন এবং ছুটির দিনে কাশীর আসি ঘাটে যা ঘটেছিল তা পর্যটন সুরক্ষা এবং পুলিশের দক্ষতা নিয়ে একরাশ প্রশ্ন উঠছে । আর বারাণসী পুলিশের সামনে আয়না তুলে ধরেছেন অঙ্কিতা গুপ্তা নামে এক তরুনী । একটি সংগঠিত মোবাইল চোর চক্র বিশেষ পুলিশ অভিযানের মাধ্যমে নয়, বরং পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অঙ্কিতা গুপ্তা নামে ওই তরুণী পর্যটকের সাহস, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং অটল দৃঢ়তার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে।
আসলে বড়দিনের ছুটিতে বাবা-মা ও এক ভাইয়ের সঙ্গে আধ্যাত্মিক শহর কাশী ভ্রমণে গিয়েছিলেন মুম্বাইয়ের ঘাটকোপারের বাসিন্দা রমেশ গুপ্তার মেয়ে অঙ্কিতা গুপ্তা ৷ সোমবার সন্ধ্যায় তারা আসি ঘাটে গঙ্গারতি দেখতে গিয়েছিলেন । ঘাটে ভিড়ের মধ্যে, এক পকেটমার তার আইফোন, যার মূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা, ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এটি এমন এক সময় ঘটে যখন ঘাটে পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ছিল না বললেই চলে ।
ঘটনার পরপরই অঙ্কিতা ভেলুপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ চুরির একটি অভিযোগ দায়ের করে চুপচাপ বসে থাকে । অঙ্কিতা তার মোবাইল ফোন বিল, নথিপত্র, ইএমআই নম্বর এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দেওয়া সত্ত্বেও, পুলিশ তার অবস্থান খুঁজে পায়নি বা সন্দেহভাজন এলাকায় অনুসন্ধান চালায়নি। রাজ্য সরকার পুলিশকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সম্পদ সরবরাহ করার দাবি করার পরেও এটাই বারাণসীর মত পর্যটকবহুল শহরের বাস্তব পরিস্থিতি ।
এদিকে পুলিশের উদাসীনতায় হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি অঙ্কিতা৷ তিনি নিজেই মোবাইলের অবস্থান ট্রাক করতে শুরু করেন । একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে, তিনি একটি অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইলের ইএমআই নম্বরটি ট্র্যাক করেন। মোবাইলের লোকেশন একই লোকেশনে বারবার দেখা যাচ্ছিল। রাত ২টার দিকে অঙ্কিতা নিজেই লোকেশনে পৌঁছান এবং সেখানে একাই থাকেন। তবে স্থানীয় সাংবাদিক সুরেশ গান্ধীকে সঙ্গে করে নিয়ে যান তিনি । শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকের হস্তক্ষেপের পর, পুলিশ অনেক দেরিতে পৌঁছায়, কিন্তু সন্দেহজনক বাড়িতে তল্লাশি করেনি বা সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেনি। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর, পুলিশ একই পুরানো আশ্বাস দেয় এবং ফিরে আসে।
এদিকে সারা রাত মোবাইলের লোকেশন একই ছিল। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে অঙ্কিতা একই লোকেশনে ফিরে আসে। এবার স্থানীয়রা জড়ো হন। স্থানীয়রা জানান যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিটি রোডের চাঁদপুর স্কোয়ারে বাড়িওয়ালা রাজেন্দ্র প্যাটেলের বাড়িতে ভাড়ায় আছে । বাড়িওয়ালা যখন ঘরটি তালা খুলে দেন, তখন চোর পালিয়ে যায়, কিন্তু ভেতরের দৃশ্যটি ছিল মর্মান্তিক: ১৫ থেকে ২০টি দামি মোবাইল ফোন সেখানে পড়ে ছিল। অঙ্কিতা ঘটনাস্থলেই তার আইফোন শনাক্ত করেন।
সাংবাদিক সুরেশ গান্ধীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ আবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত মোবাইল ফোনগুলি বাজেয়াপ্ত করে। প্রশ্ন হলো, রাতে যদি গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাহলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের সাথে সাথেই পুরো নেটওয়ার্কটি উন্মোচিত হতে পারত। কিন্তু যোগী আদিত্যনাথের পুলিশের অলসতার কারনে তা সম্ভব হয়নি ।
স্থানীয়দের মতে, আসি ঘাট, দশাশ্বমেধ এবং আশেপাশের এলাকায় মোবাইল চুরির ঘটনা নতুন নয়। প্রতিদিন ৪ থেকে ৬টি মোবাইল ফোন চুরির খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরদের সাহস বেড়ে গেছে । এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ।।

