এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ জানুয়ারী : বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ যে রাজ্যের যেকোনো জায়গায় তিনি সভা,সমাবেশ ব মিছিল করতে চাইলে রাজ্য পুলিশ তাকে অনুমতি দেয় না । যেকারনে সভা,সমাবেশ ব মিছিল করার জন্য তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয় । এযাবৎ তাঁকে সভা,সমাবেশ ব মিছিলের জন্য ১০৪ বার হাইকোর্টের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি ৷ ০৫/০১/২০২২ তারিখ থেকে ৩১/১২/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ওই ১০৪ টি মামলার বিবরণ তুলে ধরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে “একনায়ক” হিসাবে অবিহিত করেছেন ৷
তিন পাতার ওই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,”আমার এই পোষ্ট এর সাথে সংযুক্ত তালিকাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতন্ত্রের নমুনা…..২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকে বিগত পাঁচ বছরে আমার শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি করার মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে কি ভাবে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে, এই তালিকাই তার প্রমান। বার বার আমাকে নিজের অধিকারের জন্য মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে যার সংখ্যাটা নেহাত কম নয়, ১০৪ বার।”
তিনি লিখেছেন,”শুধুমাত্র বিরোধী কণ্ঠস্বর কে প্রতিহত করতে এবং আমার গণতান্ত্রিক অধিকারকে বাধা দেবার জন্য, বিনা কারণে কোনোও যুক্তি ছাড়াই বারবার আমাকে রাজনৈতিক সভা বা কর্মসূচির অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে এই স্বৈরাচারী তৃণমূল সরকার ও তার দলদাস মমতা পুলিশ প্রশাসন।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও লিখেছেন,”আর প্রতিবারই মহামান্য কলকাতা উচ্চ আদালত এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষে আমাকে রাজনৈতিক সভা বা কর্মসূচি করার অনুমতি দিয়েছেন। এর থেকেই প্রমাণিত যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছেন, বিরোধী কন্ঠ কে দমাতে চেয়েছেন।কিন্তু এতো কিছুর পরেও আমাকে থামানো যায় নি আর ভবিষ্যতেও থামানো যাবে না। পরিস্থিতি যা আমি নিশ্চিত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা পুলিশের এইরকম বেআইনি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আমার মহামান্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সংখ্যাটা ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে যাবে। তবে আটকাতে আমাকে পারবে না…।”
https://twitter.com/i/status/2006664074973897068
প্রসঙ্গত,পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া চলছে ৷ সেটা শাসকদল যে অনুভব করতে পারছে না তা নয় । তৃণমূলের নির্বাচনী এজেন্ট “আই প্যাক”ও চলতি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া নিয়ে অভিষেক ব্যানার্জির কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে বলে একটি ভিডিওতে দাবি করেছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় । তার উপর ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের “বাবরি মসজিদ” ফ্যাক্টর মমতা ব্যানার্জিকে ভাবাচ্ছে ৷ ২০২৬ সালের ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলে নেতিবাচক ইঙ্গিত মমতার শারিরী ভাষাতেও ধরা পড়ছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ । এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সভাতেও মানুষের মধ্যে তেমন উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না । সাম্প্রতিক কালে তিনি মাত্র দুটি সভা করেছেন- একটি নদীয়ার কৃষ্ণনগরে এবং অন্যটি বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়ায় । দুটি সভাতেই তেমন লোক হয়নি । বিশেষ করে কৃষ্ণনগরের সভায় মমতার বক্তব্যের মাঝেই শ্রোতাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চিন্তায় ফেলে দিয়েছে শাসকদলকে ।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যেখানেই সভা বা মিছিল করতে যাচ্ছেন সেখানেই ঢল নামছে মানুষের । শুভেন্দুকে ঘিরে মানুষের এই আবেগ যে শাসকদলের মাথাব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে তা সভা বা মিছিলের জন্য রাজ্য পুলিশের অনুমতি না পাওয়াতেই স্পষ্ট ।।

