এইদিন ওয়েবডেস্ক,তেহেরান,০১ জানুয়ারী : “নারী -জীবন-স্বাধীনতা” আন্দোলন আর তীব্র দারিদ্রের কারনে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ সংগঠিত হচ্ছে ।তেহরান, কোম, ইসফাহান… সর্বত্র বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে । বাজার বন্ধ । ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী, মহিলা, পেনশনভোগী, শহুরে দরিদ্র… সবাই রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ শুরু করেছে । চারিদিকে শ্লোগান উঠছে “মোল্লারা দেশ ছাড়ো” । বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভে যোগ দেওয়ায় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী হোসেইনি খামেনি ৷
এদিকে এই বিক্ষোভের মাঝেই কেরমানশাহের ইমাম হাসান সিকিউরিটি ইউনিটের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অপারেশনস কমান্ডার (Kowsari Intelligence & Operations Commander) মহম্মদ কাওসারিকে (Mohammad Kowsari) হত্যা করা হয়েছে বলে খবর আসছে । মহম্মদ কাওসারি কুর্দি এলাকাসহ পশ্চিম ইরানে ব্যাপক গ্রেপ্তারি এবং বিক্ষোভ দমনপিড়নে জড়িত ছিলেন । দেশব্যাপী অস্থিরতা, বাজারে ধর্মঘট এবং ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মোহাম্মদ কাওসারির হত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রথম শেয়ার করেন রেবাজ শরীফি (@rebaz_sharifi), যিনি পশ্চিম ইরানের ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এমন একটি কুর্দি উৎস।
“নারী-জীবন-স্বাধীনতা” আন্দোলনের মাঝে ইরানি মুদ্রার ব্যাপক পতনের ফলে বিক্ষোভ এখন চরম আকার ধারন করেছে৷ বর্তমানে ইরানি রিয়াল ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে । এক ডলারের মূল্য এখন ১.৪-১.৫ মিলিয়ন রিয়ালে দাঁড়িয়েছে । খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া । মুদ্রাস্ফীতি ৪০-৫০% ছাড়িয়ে গেছে । ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে ধ্বংস করে দিয়েছে । চারিদিকে খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে । মানুষের হাতে অর্থ নেই । তারা ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে ।
তবে ইরানের অর্থনীতির এই বেহাল পরিস্থিতি আচমকা সৃষ্টি হয়নি । ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু আলী হোসেইনি খামেনি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি যাজক অভিজাতদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে এতদিন ধরে । আইআরজিসি ব্যবসা, মিডিয়া, বিচারব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তার করেছে ৷ তেল সম্পদের সুবিধা ভোগ করে শাসনব্যবস্থা থাকা এলিট সম্প্রদায়, নাগরিকদের ভাগ্যে কিছুই জোটে না । দুর্নীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে । সাধারণ মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়ে গেছে । দিনের পর দিন রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মম নিপিড়নের শিকার হয়েছে ইরানের সাধারণ মানুষ । যার ফলে বছরের পর বছর ধরে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এবার । তাই সাধারণ মানুষ আর সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে না… তারা পুরো ধর্মীয় ব্যবস্থাকে উৎখাতের ডাক দিচ্ছে ।।

