এইদিন ওয়েবডেস্ক,আলিপুরদুয়ার,২৪ নভেম্বর : ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর)-এর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভোটার তালিকায় কারচুপির যে চিত্র উঠে আসছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মত । কোথাও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এদেশে এসে বিয়ের পর শ্বশুরকে বাবা বানিয়ে ভোটার কার্ড করে ফেলছে । কোথাও ছেলের থেকে মা ১১ বছরের ছোটো । কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে একই মহিলার নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ৪৪ জায়গার ভোটার তালিকায় । এই সমস্ত কারচুপির মাঝেই আলিপুরদুয়ারের খোয়ারডাঙ্গা এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি বাদশা গাজীর বিরুদ্ধে কাকা শশুরকে বাবা সাজিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তোলার অভিযোগ উঠেছে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি যে বাদশা গাজী আদপে একজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী । রাজ্যে বামফ্রন্টের শাসনকালে সে ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ভারতে অবৈধভাবে ঢুকে পড়ে । তারপর আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের খোয়ারডাঙ্গা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এসে ঘাঁটি গাড়ে৷ স্থানীয় এক মেয়ের সঙ্গে বিয়ে করে রীতিমতো সংসার ফেঁদে বসে । প্রথমে সে সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর বাদশা গাজী দল পরিবর্তন করে৷ ধীরে ধীরে বিভিন্ন ব্যাবসার সঙ্গে সঙ্গে দলের কাজেও সময় দিতে শুরু করেন বাদশা ।
এরপর ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তাকে ১০/১৪১ বুথের সভাপতি করে দেয় তৃণমূল । আর সেই সূযোগ কাজে লাগিয়ে বাদশা গাজী নিজের কাকা শশুর আব্দুল মিয়াকে বাবা বানিয়ে ভোটার কার্ড করে ফেলে৷ অভিযোগ যে আব্দুল মিয়ার সরলতার সুযোগ নিয়ে,তাকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেবার নাম করে তার কাগজপত্র বাদশা, এবং সেই সব কাগজপত্রের সাহায্যে নিজের নাম ভোটার তালিকায় তুলে ফেলে সে । স্থানীয়দের কাছে ঘটনার কথা জানবার পর,আব্দুল মিয়া প্রতিবাদ করলে বাদশা তাকে জানায়, এই নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
কিন্তু চলতি এসআইআর আবহে এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় বুথ লেভেল এজেন্ট(বিএলএ) বুথ লেভেল অফিসার(বিএলও)কে বাদশার বিষয়ে অভিযোগ জানান। বাদশার বিষয়ে জিগ্যেস করলে প্রথমে তাকে নিজের ছেলে বলে পরিচয় দেন আব্দুল মিয়া। কিন্তু তাকে স্থানীয়দের অভিযোগের কথা বলতেই, সে কার্যত স্বীকার করে নেন বাদশা গাজী তার দাদার মেয়ের স্বামী । সে মিথ্যে বলে তার কাগজপত্র ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। যদিও বাদশা গাজী এখনো তার নকল বাবা আব্দুল মিয়াকেই আসল বলে দাবী করে যাচ্ছেন। যেখানে আব্দুল মিয়া বাদশাকে নিজের সন্তান নয় বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
পাশাপাশি জানা গেছে যে বিএলও বাদশার বাড়িতে এসআইআর-এর গননা ফর্ম দিয়ে আসলেও সে, হাতে হাতে জমা না দিয়ে অনলাইনে জমা করেছে, এই নিয়েও তার নাগরিকত্ব ঘিরব রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে ।স্থানীয়রা জানান যে তারা বাদশা কে মাঝে মাঝেই বাংলাদেশে ভিডিও কলে কথা বলতেও দেখেছেন।এখন প্রশ্ন, কে এই বাদশা গাজী? বিষয়টি নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে । স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন যে বাদশা গাজিকে গ্রেপ্তার করে তার আসল পরিচয় সামনে আনুক পুলিশ ।।

