এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২১ নভেম্বর : গত সপ্তাহে, চীনের একটি সুন্দর পাহাড়ি মন্দিরে পর্যটকদের মোমবাতি এবং ধূপ ব্যবহারের অসাবধানতার কারণে আগুন লেগে মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে গেছে । ঘটনাটি ঘটেছে ১২ নভেম্বর বুধবার জিয়াংসু প্রদেশের ওয়েনচাং প্যাভিলিয়নে। অনলাইনে প্রচারিত ভিডিও ক্লিপ এবং ছবিতে পাহাড়ের চূড়ার মন্দির থেকে আগুন এবং কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভ্রমণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ফেংহুয়াং পর্বতের ঢাল ঘুরে দেখার জন্য দর্শনার্থীদের কাছে মন্দির কমপ্লেক্সটি একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক গন্তব্য। আগুনে পুড়ে যাওয়া মন্দিরের ভাইরাল ফুটেজ চীন জুড়ে ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিতে পর্যটকদের আচরণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা গেছে যে তিনতলা বিশিষ্ট প্রাসাদটি দ্রুত আগুনে পুড়ে যাচ্ছে এবং এর ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়ছে।
২০০৯ সালে সম্পন্ন হওয়া এই মন্দিরটি পার্শ্ববর্তী ইয়ংকিং মন্দির দ্বারা পরিচালিত হয়। এর উৎপত্তি বহু শতাব্দী আগে। যদিও মণ্ডপটি একটি আধুনিক পুনর্গঠন, এর নকশা এই অঞ্চলের প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য শৈলীর প্রতিফলন ঘটায়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে দর্শনার্থীরা ভুলভাবে মোমবাতি এবং ধূপ ব্যবহারের কারণেই আগুন লেগেছে। স্থানীয় বলেছে যে এই ধরনের আচরণ “দায়িত্বজ্ঞানহীন” এবং এটি ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং আশেপাশের বনাঞ্চল উভয়কেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং আগুন মণ্ডপের বাইরে ছড়িয়ে পড়েনি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই প্রকার ঘটনা রোধে শীঘ্রই আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে। তদন্ত সম্পন্ন হলে, মূল কাঠামোর ঐতিহ্যবাহী স্টাইলে পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে। পুনর্গঠন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী সপ্তাহগুলিতে৷ এই ঘটনাটিকে ২০২৩ সালে গানসু প্রদেশের শতাব্দী প্রাচীন শানদান গ্রেট বুদ্ধ মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে কমপ্লেক্সের বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, শুধুমাত্র বিশাল বুদ্ধ মূর্তিটি আংশিকভাবে অক্ষত ছিল।।

