এইদিন ওয়েবডেস্ক,মেমারি(পূর্ব বর্ধমান),২১ নভেম্বর : ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যেসমস্ত মুসলিমদের নাম নেই সেই নাম ঢোকাতে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) কাছ থেকে ওটিপি(ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক আয়েষা রানী তৃণমূল নির্বাচনী এজেন্ট আইপ্যাককে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন যে কাটোয়ার বিধায়ক ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, রাজ্যের মন্ত্রী ও মন্তেশ্বরের বিধায়ক সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও মধুসূদন ভট্টাচার্যরা বাংলাদেশী মুসলমানদের নাম ভোটার তালিকায় রাখার জন্য চাপ দিচ্ছে ।
আজ শুক্রবার বিজেপি কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার ডাকে মেমারিতে “পরিবর্তন সংকল্প সভা” করেন শুভেন্দু অধিকারী । বিকেল ৩:৩০ নাগাদ মেমারির উদয় সংঘ খেলার মাঠে শুভেন্দুর সভাতে কার্যত জলপ্লাবন দেখা যায় । সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েষা রানীর বিরুদ্ধে শাসকদলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা । তবে তিনি সবচেয়ে মারাত্মক যে অভিযোগটা তুলেছেন,সেটা হল বাংলাদেশি মুসলিমদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী এজেন্ট আই প্যাকের হয়ে কাজ করা৷
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’বাংলাদেশী মুসলমানদের রাখার জন্য চাপ দিচ্ছে রবি চ্যাটার্জি, খোকন দাস, মধুসূদন ভট্টাচার্য, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীরা । আর পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলির জেলাশাসকরা
সর্বশেষ যে অবৈধ কাজটা করেছে,কিছু বিএলও-কে ডেকেছে ওটিপি দেওয়ার জন্য । ওটিপি হ্যান্ড ওভার করার মত জিনিস নয় । তার কারণ হচ্ছে ওই ওটিপি নাম্বারটা আইপ্যাককে দেবে । আইপ্যাক এবার করবে কি, ধরুন আমার নাম সিরাজুল মন্ডল, আমার নাম মিলছে না, ২০০২ ভোটার লিস্টে নেই, এদের সঙ্গে ম্যাচ করে কুচবিহার,উত্তর দিনাজপুর,মালদায় কোনো একই বাবার নাম আছে কিনা দেখে ওই ওটিপি দিয়ে ঢুকিয়ে তার নামটা এখানে ব্যবস্থা করছে । এটা বিএলওরা আমাদেরকে অভিযোগ করেছে । সেই কারণে আমি আজকে একটা অভিযোগ ইলেকশন কমিশনের যে প্রতিনিধি দিল্লি থেকে এসেছিলেন জ্ঞানেশ ভারতীর কাছে দিয়ে এসেছি ।’
পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রাণীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন,’পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক এখানে বেআইনিভাবে আছেন৷ ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার(ডিও) হওয়ার যোগ্যতা তার নাই,ইলেকশন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী । বর্ধমানের জেলাশাসক তৃণমূলের বিধায়ক, নেতাদের ডেকে ডেকে বলছেন বিজেপি ভালো ভোটার লিস্ট করছে, আপনারা কেন ছেড়ে দিচ্ছেন ? এটা জেলা শাসকের কাজ ?’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’কয়েকদিন আগে তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের ৫ টাকার খাবার উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন । আমি জেলা শাসকের কাছে জানতে চাই যে খোকন দাসের সোর্স অফ ইনকাম কি ? এই ৫ টাকা করে যে খাবার দিচ্ছে তার সোর্স কি, বালির টাকা না তোলার টাকা। একজন জেলাশাসক চলে যেতে পারে সোর্স না জেনে ? ইনকাম ট্যাক্স থেকে যদি জানতে চাওয়া হয় আপনি যে খাওয়াচ্ছেন তার রোজকার কি’সোর্স কি? দেখাতে পারবেন তো ?
এরপর তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসককে সতর্ক করে দিয়ে বলেন,’মাননীয়া আয়েশা রানী আপনাকে অনেকদিন আগে থেকে আমি চিনি । উত্তর দিনাজপুর থেকে চিনি । আপনি এসব কাজ করবেন না, এসব কাজ করলে বিপদে পড়বেন । বিপদে পড়লে মমতা ব্যানার্জি কেষ্ট মন্ডলকে শাহজাহানকে পার্থকে যেমন বাঁচাতে পারিনি, তেমনি আপনাকেও বাঁচাতে পারবে না ।’।
Author : Eidin.

