এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৮ নভেম্বর : ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর এরাজ্যে ব্যাপক হারে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীর সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে । না আছে শিল্পায়ন, না আছে সরকারি চাকরির সুযোগ । তার মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে এসএসসি-এর ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ায় প্রায় কুড়ি হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষা কর্মীর চাকরি চলে গেছে । রাজ্য সরকার যোগ্য-অযোগ্য চিহ্নিত না করে দেওয়ায় বহু মেধাবী পরীক্ষার্থী চাকরি হারিয়েছেন । এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে । সরকারি চাকরি দেওয়া তো দূরের কথা,অমিত মিত্রর কথায় ২০২১ সাল থেকে এযাবৎ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ৬ লক্ষ স্থায়ী পোস্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অবলুপ্ত করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ।
সোমবার বিকেলে কলকাতা ৬ মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’এই মহিলা চাকরি দেবেন না । এই মহিলা আরও দু’তিনশ টাকা ভাতা বাড়ানোর তালে আছে । এই মহিলা চাকরি দিতে পারেন না । পরিষ্কার কথা । আমি ওনার সঙ্গে কাজ করেছি । এক একটা ক্যাবিনেটে অমিত মিত্র পোস্টগুলির অবলুপ্তি ঘটিয়ে সরকারি চাকরিগুলোকে একদম শুলে তুলতেন । কিন্তু প্রতিবাদ করার কোন সুযোগ নেই । আমি যে ডিপার্টমেন্টের ছিলাম, সেই ডিপার্টমেন্টের ইস্যু হলে প্রতিবাদ করতাম । অন্য ডিপার্টমেন্টে তো আমার প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই ।’
তাঁর অভিযোগ,’২০২১ সাল থেকে অদ্যাবধি ৬ লক্ষ স্থায়ী পোস্ট অমিত মিত্রর কথায় অবলুপ্ত করেছে মমতা ব্যানার্জির ক্যাবিনেট । এনার পলিসি হচ্ছে লাগলে কন্ট্রাক্টচ্যুয়াল চাকরি দেবো । এসসি, এসটি, হিন্দু ওবিসিদের বঞ্চিত করব৷ ১০ হাজার, ৮ হাজার বেতন দেবো । ৬ মাস অন্তর রিনিউয়্যাল করব । যাতে ভোট দেয়,পার্টির মিছিলে যেতে বাধ্য হয়৷ থার্ড পার্টি নিয়োগ করব ওয়েবেলের মাধ্যমে । যাতে আমার কোন দায় না থাকে । কিন্তু চাকরি আমি দেব না ।’
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’প্রথম কথা হচ্ছে মমতা ব্যানার্জির চাকরি দেবেন না এটা পরিষ্কার । সাত লক্ষ ফ্রেশার । যারা পরীক্ষা দিয়েছিল তাদের টাকা ফেরত দিন। সাড়ে ৭০০ না সাড়ে ৬০০ করে নিয়েছেন । টাকা ফেরত দিতে হবে মমতা ব্যানার্জিকে এবং তিনি চাকরি দেবেন না । শেষ এসএসসি-এর নোটিফিকেশন ১৫ । এটাতো এক্সেপশন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাধ্য হয়ে করেছে। এটা নর্ম্যাল এসএসসি নয় । শেষ পিএসসি হচ্ছে ১৭ সালে ৷’
তিনি বলেন,’এবারে ৭ লক্ষের বেশি ফ্রেসারকে… আগে এসএসসি হলে ৭০ লক্ষ্য করে বেশি পরীক্ষা দিত…১৫ সালে ৭০ লক্ষ পরীক্ষা দিয়েছে । এই কারনে পশ্চিমবঙ্গে ৯ লক্ষ ৫৪ হাজার গ্রাজুয়েট এবং অনার্সের পোস্ট, কলেজে তিন লক্ষ ভর্তি হয়েছে । শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য শুনুন 👇
আমি যখন গ্রামে গিয়ে জিজ্ঞেস করি পড়ান না কেন ? তখন উত্তর দেয় পড়িয়ে কি হবে ? একদম নিশ্চিত যে মমতা ব্যানার্জির আমলে চাকরি পাব না । এইট পাস, ১০ পাস যথেষ্ট । তারপরে চাষের কাজ করুক বা বাইরের রাজ্যে চলে যাক । এখানে ৩০০ টাকা হাজিরা দিলে পাওয়া যায় । কিন্তু বাইরের রাজ্যে গেলে যে কোন নির্মাণ কর্মী ১০০০ টাকা প্রতিদিন পায় । মাসে ২৫ দিন কাজ হলে ২৫ হাজার টাকা রোজগার করে । মাসে নিজের জন্য ১০০০০ টাকা খরচা করে ১৫ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠায় । এটাই বাস্তবতা । ৬০ এ ৬০ পেয়েও চাকরি পায়নি । আর একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর যাদের চাকরি চলে গেছে আমার জানা, কয়েক’শ তারা ভাইভা ইন্টারভিউতে ডাক পায়নি ।’
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম আসামি যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জীবন কৃষ্ণ সাহাকে ২০২৩ সালে সিবিআই গ্রেফতার করে । তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কিছু প্রমান সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে এনেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী । বিষয়টি ফের উত্থাপন করে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তুলোধুনো করেন । শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’জীবনকৃষ্ণ সাহা জেলখানাতে বসে পা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে ফোন করে টাকা নিচ্ছেন৷ আমি একটা অ্যাকাউন্ট দিয়ে দিয়েছি, যেখানে ৫০ হাজার টাকার ট্রান্সফার হয়েছে । একটা অডিও রেকর্ড দিয়েছি যেখানে সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে কথা বলছে । আমি আমার সোশ্যাল মিডিয়ার ভেরিফাইড একাউন্টে দিয়েছি, তার সম্পূর্ণ দায় আমার । জেলখানা থেকে যদি এখনো এই ব্রোকাররা কাজ করে, জেলখানা কার ? এই মমতা ব্যানার্জির । এখানে কি ইডি, সিবিআইকে কাজ করতে দেওয়া হয় ? তাই আমি ইডি,সিবিআই-এর কাছে এই রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতির মামলা অন্য রাজ্যে ট্রান্সফার করার জন্য দাবী করেছি । নইলে, গরমকালে এসি এবং শীতকালে গরম জল । অষ্টমীর দিন লুচি ছোলার ডাল এবং নবমীর দিন কচি পাঁঠার ঝোল । প্রথমে পিজি, উডবান । সেখানেও যদি পছন্দ না হয় তাহলে মণিপাল । পার্থ-এর যত ওজন ছিল আরো কুড়ি কেজি বাড়িয়ে নিয়েছে । একদম পেট-ঘাড় সব সমান হয়ে গেছে ।’
প্রসঙ্গত,শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার মাস্টারমাইন্ড হলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় । কলকাতায় তার তরুনী প্রেমিকা অর্পিতা চ্যাটার্জির ফ্লাট থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা উদ্ধার হওয়ার পর দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে ইডি । তিন বছরের অধিক সময় জেলে কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন ।।
Author : Eidin.

