এইদিন ওয়েবডেস্ক,আসানসোল,১২ নভেম্বর : তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় থাকা “বাংলাপক্ষ” নামে একটি ভুঁইফোড় গোষ্ঠীর মুখে বাংলা-হিন্দি ভাষা নিয়ে ভেদাভেদের কথা শুনতে পাওয়া যায় আকছার । তারা বিহারীদের “গুটখা খোর” বলে প্রায়ই বিদ্রুপ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ তবে তৃণমূল সরাসরি এই ভেদাভেদের কথা প্রকাশ্যে না বললেও “বাঙালি অস্মিতা” রক্ষার কথা বলে কার্যত ওই গোষ্ঠীর নীতিকেই ঘুরপথে সমর্থন করে বলে অভিযোগ ওঠে । এরাজ্যের হিন্দিভাষীরা সাধারণত বিজেপির সমর্থক হওয়ায় মাঝেমধ্যেই শাসকদলের নেতানেত্রীদের অসন্তোষ প্রকাশও করতে শোনা গেছে । এবারে পানীয় জলের জন্য আবেদন জানানোয় আসানসোলের রানীগঞ্জের এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে হিন্দি ভাষীদের “বাইরের লোক” এবং বাংলা ভাষীদের “ঘরের লোক” বলে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ উঠল।
রাজ্য বিজেপির বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। যাতে “বাইরের লোক” ও “ঘরের লোক” বলে চিহ্নিত করতে শোনা গেছে৷ যদিও অডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি এইদিন । তবে অগ্নিমিতা জানান যে ভাষার ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টিকারী তৃণমূলের ওই নেতা হলেন রানীগঞ্জের জেমেরি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধানের স্বামী রঞ্জিত মুখার্জি৷
বিজেপি নেত্রী হিন্দি দৈনিক সংবাদপত্র জাগরণ-এ প্রকাশিত এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও পোস্ট করেছেন ৷ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে,”বিহার ও ইউপি থেকে চলে আসা এবং রানিগঞ্জ ব্লকের জেমেরি পঞ্চায়েতে বসবাসকারী লোকেরা প্রথমে জল পাবে না। জেমেরি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তরুণ তৃণমূল নেতা সঞ্জিত মুখার্জির এই অডিও (যা দৈনিক জাগরণ দ্বারা যাচাই করা হয়নি) ভাইরাল হচ্ছে।”
আরও লেখা হয়েছে,”এই অডিওতে, তিনি কারও সাথে কথা বলছেন এবং তাকে বলছেন যে তিনি জল পাচ্ছেন না। তাই, ট্যাঙ্কারটি সেই এলাকার পরিবর্তে জেমেরি গ্রামে পাঠানো হয়েছিল। সেই ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করলে, সঞ্জিত মুখার্জি বলেন যে এখানকার মানুষরা আগে জল পাবে, যারা ইউপি ও বিহার থেকে এসেছে তারা আগে জল পাবে না। কারণ তারা বহিরাগত। এই ভাইরাল অডিও নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে সঞ্জিত মুখার্জির সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন যে এই কণ্ঠস্বর তার নয়।”
অগ্নিমিত্রা পালের শেয়ার করা অডিওতে একজনকে চারদিন ধরে জল সরবরাহ বন্ধের কথা বলতে শোনা যায়৷ ওই ব্যক্তি জলের ট্যাঙ্ক সরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও প্রতিবাদ করেন৷ তখন অন্যদিক থেকে বলতে শোনা যায়, “তোরা তো সব বাইরের লোক আছিস, আউটসাইডার ইউপি বিহারের৷ আমরা তো বাঙালি, ঘরের লোক…..।” তখন অভিযোগকারী বলেন, “এই ভাষাটা বলে ভালো করলে ? এরকম ভাষা বলো না একজন প্রধান হয়ে ৷ চেয়ারটা নড়িয়ে দেবো ।”
অগ্নিমিত্রা পাল লিখেছেন,”মুসলিম ভোট পাওয়া নিশ্চিত করতে SIR বিরোধিতা। আর হিন্দু ভোট ভাগ করতে বাঙালি অস্মিতা। তৃণমূল সব পারে। আখের গুছিয়ে রাজনীতি করাটা তৃণমূল শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।” ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন,”রানীগঞ্জের জেমেরি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধানের স্বামী রঞ্জিত মুখার্জি, হিন্দি বাসীদের নিয়ে কুরুচিরক মন্তব্য করছে। তারা নাকি উত্তরপ্রদেশ বিহারের মানুষ। আর হলেও বা। দেশের মানুষ তো?
বিভাজন যত করবেন, আপনিই বিপদে পড়বেন। আসলে আপনাদের ভোটব্যাঙ্ক তো সেই বাংলাদেশ থেকে আসা, পাকিস্তান থেকে আসা রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীরা। আর এই সরকার বাংলাদেশী ও পাকিস্থানীদের তো নিজের মনে করে। ধন্য সরকার বটে!” তিনি ওই তৃণমূল নেতার একটা ছবিও পোস্ট করেছেন৷ যদিও ওই নেতার প্রতিক্রিয়া নেওয়া সম্ভব হয়নি ।।
Author : Eidin.

