এইদিন ওয়েবডেস্ক,ইন্দোর,০৯ জুন : মেঘালয়ের শিলংয়ে মধুচন্দ্রিমার সময় খুন হন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের রাজা রঘুবংশী নামে এক যুবক । তার স্ত্রী সোনম সুপারি কিলার লাগিয়ে তাকে হত্যা করে৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুসারে, রাজা রঘুবংশীকে কুড়াল দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার দেহ খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল । আজ সোমবার মেঘালয়ের ডিজিপি আই নোংরাং পিটিআই -কে বলেছেন,’মৃতের স্ত্রী সোনম উত্তর প্রদেশের গাজীপুরের নন্দগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন, এবং রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের এবং একজনয় উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরের বাসিন্দা।’
জানা গেছে, ইন্দোরের রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড খোদ তার স্ত্রী সোনম ও সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা ৷ সোনমের বাবার একটি প্লাইউড কারখানা আছে । রাজ কুশওয়াহা একই কারখানায় কাজ করত । এখানেই সোনমের সাথে তার সম্পর্ক তৈরি হয় । কিন্তু সোনমের বাবা-মা তার বিয়ে ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর সাথে দেয় । গত ১১ মে রাজা রঘুবংশীর সাথে সোনাম রঘুবংশীর বিয়ে হয় । রাজা চেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কায় মধুচন্দ্রিমায় যেতে । কিন্তু স্ত্রীর জোরাজুরিতে তিনি মেঘালয়ের শিলংয়ে যেতে বাধ্য হন । এরপর ২৩ মে তাদের ফোন বন্ধ হয়ে যায় । ২৪ মে তাদের ভাড়া করা স্কুটিটি পাহাড়ের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ২ জুন রাজার মৃতদেহ একটি জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর খাদে পাওয়া যায় ।
তখনো নিখোঁজ ছিল সোনম । সন্দেহ করা হচ্ছিল যে জায়গাটি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে গেছে সোনম । কিন্তু সে গ্রেপ্তার হতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে রাজা রঘুবংশীকে । রাজাদের গাইড যে ৩-৪ জনকে তাদের সাথে কথা বলতে দেখেছিল তারা আসলে সুপারি কিলার ও সোনমের প্রেমিক । গাজীপুর থেকে সোনম রঘুবংশীকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ জানতে পেরেছে যে সোনম তার স্বামী রাজা রঘুবংশীকে তাদের মধুচন্দ্রিমায় হত্যা করার জন্য ৪ জন সুপারি কিলারকে ভাড়া করেছিল । সবকিছুই পূর্বপরিকল্পিত ছিল । যা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি রাজা রঘুবংশী । আর বিয়ের মাত্র ২ সপ্তাহের মধ্যেই স্ত্রী সুপারি কিলার লাগিয়ে তাকে খুন করায় ।।

