এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),০৬ জুন : বেহাল রাস্তার কারনে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের মাধপুর গ্রামের পড়ুয়ারা । গ্রামবাসীদের অভিযোগ,সিপিএমের জমানা থেকে বঞ্চনার শিকার তারা । পরে ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেও তাদের গ্রামের যাতায়াতের প্রধান রাস্তার আর কোনো পরিবর্তন হয়নি । যেকারণে বর্ষা এলেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠে রাস্তাটি । গ্রামের স্কুল পড়ুয়াদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে হয় ৷ প্রায় দুদশক ধরে এটাই গ্রামের বিধিলিপি হয়ে দাঁড়িয়েছে । গ্রামবাসীদের অভিযোগ,বারবার পঞ্চায়েতের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোনো সুরাহা হয়নি । এদিকে কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের কারনে মাধপুর গ্রামের রাস্তাটিতে হাঁটুভর্তি জলকাদা হয়ে গেছে । যেকারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অবিভাবকরা ।
জানা গেছে,বড়বেলুন ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাধপুর গ্রাম । ভাতার-মালডাঙ্গা সড়কপথের ধারে পঞ্চায়েত ভবনের বাঁদিক দিয়ে একটি রাস্তা রয়েছে । রাস্তাটি মাধপুর গ্রামের ভিতর দিয়ে সালুন গ্রাম পর্যন্ত গেছে । মাধপুর গ্রামের ময়রাপাড়া থেকে ভাতারের কোশিগ্রাম মেলাতলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার আর একটি রাস্তা রয়েছে । যেটি বলগোনা-মালডাঙ্গা রোডের সঙ্গে মিশছে । তার মধ্যে দেড় কিলোমিটার পড়ছে মন্তেশ্বর ব্লক এলাকার মধ্যে। আর এই রাস্তাটিই দীর্ঘ প্রায় দু’দশক ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে । জানা গিয়েছে, মাধপুর গ্রামে মুসলিমপাড়া ও দাসপাড়ার কাছে রয়েছে একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। এছাড়া এই রাস্তা দিয়েই ছাত্রছাত্রীরা কোশিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় এবং নাসিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে যায়।
স্থানীয় গ্রামবাসী শেখ মনিরুল, পল্টু শেখ, জয়দেব দাস , নাসিরুদ্দিন শেখ,তালিম শেখদের অভিযোগ,প্রায় ২০ বছর আগে এই রাস্তাটি মাটি ফেলে কাজ করা হয়। কিন্তু তারপর মন্তেশ্বর ব্লক এলাকার দেড় কিলোমিটার রাস্তার কোনো কাজ করা হয়নি। বর্তমানে মাটির রাস্তার উপর হাঁটুভর্তি জলকাদা। যানবাহন চলাচল তো দূর অস্ত, হেঁটে চলাচল করাই দুরুহ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ বারবার পঞ্চায়েতে জানিয়েও কোনো কাজের কাজ হয়নি ।’ খোদ ভাতার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা মাধপুর খাদিমপাড়ার বাসিন্দা আবেদা সুলতানাও এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।
স্থানীয় মহিল মিনতি দাস, সাগিরা বিবিরা জানান, কয়েকদিন ধরেই নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারনে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে রাস্তাটি । তাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল বা টিউশন যেতে গিয়ে প্রায়ই ছোটোখাটো দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে । যেকারণে ছেলেমেয়েদের স্কুল বা টিউশন যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । মাধপুর গ্রামের ওই দেড় কিমি রাস্তার বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বড়বেলুন-২ পঞ্চায়েত প্রধান সুশান্ত সাহা বলেন,মাধপুর ময়রাতলা থেকে কোশিগ্রাম রাস্তা জেলাপরিষদের অধীনে ।’ কিন্তু জেলাপরিষদকে কে জানাবে ? এক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের ভূমিকা কি কিছুই নেই ? যদিও এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পঞ্চায়েত প্রধান । তবে শুধু ওই দেড় কিমি রাস্তাই নয়,মাধবপুর গ্রামের মুসলিমপাড়া, দাসপাড়া,হাজরাপাড়া,ময়রাপাড়া প্রভৃতি পাড়ার মধ্যের রাস্তাগুলিও দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে বলে অভিযোগ । অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানের সাফাই,’পাড়ার রাস্তাগুলির অবস্থার বিষয়ে পঞ্চায়েতের কাছে জানানো উচিত ছিল এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যদের ।’।

