এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর ২৪ পরগণা,২৯ মে : বুধবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়ারা মুক্তারবাগান এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান (৬৫) ও মমতাজ পারভীন (৫৫) নামে প্রৌঢ় দম্পতির গলার নলি কাটা দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ । কিন্তু বেপাত্তা ছিল তাদের ইঞ্জিনিয়ার ছেলে হুমায়ুন কবীর (৩৫) । তারপর সে পৌঁছে যায় পূর্ব বর্ধমান থেকে প্রায় ১০০ কিমি দূরে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁয় । সন্ধ্যায় সেখানে মাদ্রাসা খানকা শরীফে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় । কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে উপস্থিত শিক্ষক ও পরিচারকদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে । এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় । একদল জনতা মাদ্রাসার সামনেই বনগাঁ-বাগদা সড়ক অবরোধ শুরু করে । অবরোধ তুলতে গিয়ে আক্রান্ত হন বনগাঁ থানার আইসি শিবু ঘোষ । এদিকে অন্য আর এক দল বনগাঁ থানায় গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় । ভাঙচুর করে ধৃতকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে । থানার টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর করা হয় । জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পালটা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী জখম হন । বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কার্যত রনক্ষেত্রের চেহেরা নেয় গোটা এলাকা । থানা ভাঙচুরের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে । পাশাপাশি মাদ্রাসার ২ শিক্ষকসহ ৪ জন ছুরিকাঘাতে জখম হয় । পুলিশ তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে খুন হন হুমায়ুন কবীরের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান ও মা মমতাজ পারভীন । তাদের গলার নলি কেটে খুন করার পর টেনে হিঁচড়ে বাইরেয় বের করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালায় ঘাতক । ঘটনার খবর পেয়ে জেলার পুলিশ সুপার সায়ক দাসসহ জেলা পুলিশের অন্যান কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌছান। একই সময়ে ঘটনাস্থলে আনা হয় পুলিশ কুকুর । বনগাঁর পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার বলেন,’হুমায়ুন বুধবার সকালে বাবা-মাকে খুন করেছে বনগাঁয় পালিয়ে আসে । সে আসলে মানসিক ভারসাম্যহীন। কী কারণে তাণ্ডব চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’
মেমারির স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে দম্পতির ছেলে হুমায়ূন কবির বাইরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করত । সে বিবাহিত হলেও বহুদিন আগে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। হুমায়ুন বাইরে কাজ করতে করতে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে পেয়ে বাড়ি নিয়ে চলে আসে।গত ৪ মাস যাবৎ হুমাযুন বাড়িতে বাবা মায়ের সঙ্গেই থাকছিল। অন্যদিকে হুমাযুনের বাবা মোস্তাফিজুর চাষাবাদ করতেন। তাঁর প্রচুর জমি জায়গা রয়েছে । খুনের পর বাড়ির মধ্যে কোনো কিছু চুরি না গেলেও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক উধাও হয়ে যায় । উধাও হয়ে যায় হুমায়ুনও । পরে সে বনগাঁয় ধরা পড়লে মেমারি থেকে ৬ সদস্যের তদন্তকারী দল সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন বলে খবর ।।

