এইদিন ওয়েবডেস্ক,পাকিস্তান,২১ মে : কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৫ জন হিন্দু পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যুর পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি বাতিল করে নয়াদিল্লি । আর ভারতের এই কঠোর পদক্ষেপের কারনে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলসঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে । যার জেরে পাকিস্তানে এখন কার্যত গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । মঙ্গলবার (২০ মে) সিন্ধু প্রদেশের নৌশেরো ফিরোজ জেলার মোরো তালুকে কয়েক হাজার মানুষ পানীয় জলের দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় । বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সেখানকার মহাসড়ক। এতে দুইজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হন উভয় পক্ষের কয়েক ডজন লোক । ফলে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে । ক্ষিপ্ত জনতা
সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন । দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা মন্ত্রীর বাড়ির ভিডিও এক্স-এ ভাগ করে বালুচিস্তান আপডেট লিখেছে,’পাকিস্তানে জলের জন্য তীব্র প্রতিবাদ চলছে। জল বিরোধ নিয়ে সিন্ধুতে বিক্ষোভ চলছে। যার মধ্যে আজ সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে জনতা।’
পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী,জল সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ ডেকেছিল সিন্ধুর একটি জাতীয়তাবাদী সংগঠন । কিন্তু জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ চলতে থাকায় বলপ্রয়োগ করে পুলিশ। সেই সময় জনতা-পুলিশ সংঘর্ষের আকার নেয় । মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক ঘন্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ।
জাতীয়তাবাদীদের দাবি, কমপক্ষে দুইজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন পুলিশের গুলিতে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, কমপক্ষে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন সংঘর্ষে। এদের মধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে হাসপাতালের বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয় বিক্ষোভকারীরা ।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লাঠি দিয়ে মারধর এবং গালিগালাজ করছেন। অন্যদিকে, পুলিশ সদস্যরাও গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করছেন।
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকটি ট্রাকও লুট করা হয় এবং একটি তেলের ট্যাঙ্কারসহ তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ছাড়া, সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জারের বাড়িতেও ভাঙচুর চালায় তারা। পরে মন্ত্রীর ঘর এবং আসবাবপত্রও পুড়িয়ে দেয় তারা।
এদিকে, মঙ্গলবারের হিংসা জন্য প্রাদেশিক সরকারকেই দায়ী করছেন বেশ কয়েকটি জাতীয়তাবাদী দলের নেতারা। তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে নাশকতাত রূপ দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিল পুলিশ।।

