এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),২৬ ফেব্রুয়ারী : শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল দুই যুবকের । আজ বুধবার সকালে সুমন সাহা (২১) ও অর্ঘ্য সাহা (২২) নামে দুই যুবক পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার দাঁইহাটে ভাগীরথী নদীর ঘাটে পূণ্যস্নান করতে গিয়েছিলেন । স্নান করার সময় একটি বার্জ জলপথ দিয়ে যাচ্ছিল । বার্জের ঢেউয়ের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে এক যুবক তলিয়ে যায় । দ্বিতীয়জন তাকে উদ্ধার করতে গেলে সেও তলিয়ে যায় । সেই সময় দুই যুবকের পোশাক ও মোবাইল ফোন পাহাড়া দিচ্ছিল সুমন সাহার ভাই সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া অয়ন । নদীর পাড়ে বসে দাদা ও দাদার বন্ধুর এই মর্মান্তিক পরিণতি অসহায়ভাবে দেখল ওই কিশোর । যদিও ডুবুরির দল এসে সুমনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্ঘ্য নামে ওই যুবকের সন্ধান করতে পারেনি ।
জানা গেছে,দাঁইহাটের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বেরা এলাকার বাসিন্দা পেশায় ধান চালের ব্যবসায়ী নিতীশ সাহার ছেলে সুমন ও অয়ন । দুই সন্তান তার । নিতীশবাবুর স্ত্রী নমিতাদেবী গৃহবধূ । সুমন কাটোয়া কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল । অয়ন সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে । সুমনের বন্ধু অর্ঘ্য সাহার বাড়ি দাঁইহাটের দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় । দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছোট ৷ দিদির বিয়ে হয়ে গেছে ।
অর্ঘ্য ল’ক্লার্কের কাজ করতেন তার বাবা বস্ত্র ব্যবসায়ী। মা শুক্লাদেবী গৃহবধূ । কয়েক বছর ধরেই শিবরাত্রির ব্রতপালন করে আসছিলেন সুমন ও অর্ঘ্য । এবারেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি ।
জানা গেছে,শিবরাত্রির ব্রতপালনের জন্য আজ সকালে গঙ্গাস্নান করতে গিয়েছিলেন দুই । বাবার বাইকে ভাই অয়নকে চাপিয়ে দাঁইহাটের ফেরিঘাটে নদীতে স্নান করতে আসেন সুমন । বন্ধু অর্ঘ্য সদ্য কেনা নতুন বাইকে চড়ে আসেন । সকাল পৌনে এগারোটা নাগাদ অয়নকে দু’জন স্মার্টফোন ও পোশাক ধরিয়ে দিয়ে তারা নদীতে স্নান করতে নামেন । সেই সময় খুব কাছ দিয়ে একটা বার্জ যাচ্ছিল। আর তার প্রবল ঢেউয়ে তলিয়ে যায় অর্ঘ্য ৷ সুমন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে যায় । কিন্তু তলিয়ে যান ।
জানা গেছে,কিশোর অয়ন মরিয়াভাবে চিৎকার করে লোকজন ডাকাডাকি করে । তার চিৎকারে লোকজনও ছুটে আসে৷ কিন্তু প্রবল ঢেউ দেখে কেউ প্রথমে নদীর জলে নামার সাহস করেনি । প্রায় আধঘন্টা পর খোঁজাখুঁজি শুরু হলে কিছুটা দূরে সুমনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় । তড়িঘড়ি তাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি । পরে ডুবুরির দল এনে অর্ঘ্যর সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয় । কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি । এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে৷ গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া৷
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও কাটোয়া প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলছে এলাকাবাসী ৷ তাদের অভিযোগ,ভাগিরথীতে সুনির্দিষ্ট কোনো স্নানের ঘাট না থাকায় পূণ্যার্থীরা ফেরিঘাটেই স্নান করতে বাধ্য হয় । উপরন্তু পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেই । যেকারণে প্রায় দিনই বেঘোরে প্রাণ চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ৷ তাদের অভিযোগ, ৩৪ বছরের বামফ্রন্টের শাসনে কাটোয়ায় ভাগিরথীতে পূণ্যার্থীরা যেভাবে ঝুঁকি নিয়ে পূণ্যস্নান করতে বাধ্য হতেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ১৫ বছরের রাজত্বকালেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ বিশেষ করে কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি ও তৃণমূল পরিচালিত কাটোয়া পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এলাকার মানুষ ।।