এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২০ ফেব্রুয়ারী : প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে পূণ্যস্নান করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে । মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৩ জন শ্রদ্ধালু । উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন । যদিও এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়নি । আর এনিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, হজে যাওয়া মৃত পূণার্থীদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা পেলে মহাকুম্ভে মৃতদের পরিবারকে নয় কেন ? এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন ?
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজভবনের বাইরে বিজেপির পরিষদীয় দলের বিধায়কদের সাথে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী ।
তিনি বলেন,’দশ বছর আগে হজে যাওয়া দু’জন মারা গিয়েছিলেন । দুঃখজনক, আমাদের সমবেদনা আছে। তারা বাঙলারই মানুষ এবং ভারতের নাগরিক । রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী কোন ফান্ড থেকে দিয়েছিলেন জানিনা, তাদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে চেক দিয়েছিলেন৷ কিন্তু মহাকুম্ভে দুঃখজনকভাবে এরাজ্যের যে তিনজন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার তাদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন । ইতিমধ্যে সেই টাকা ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে গেছে, পরিবারের লোকজন আমাদের জানিয়েছে । এক যাত্রায় পৃথক ফল হতে পারে না।’ তিনি মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন,’আপনি তো বলেছেন আমি সবাইকে সমান চোখে দেখি । আপনি তো বলেছেন আপনি সেকুলার । আপনি তো বলেছেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার । তাহলে আপনি এক্ষেত্রেও উপযুক্ত সমপরিমাণ অর্থ কেন দেবেন না ? এই পরামর্শ মহামান্য রাজ্যপাল যেন রাজ্য সরকারকে যেন দেন । কারণ রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না, রাজ্যপাল পরামর্শ দিতে পারেন ।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মহাকুম্ভকে “মৃত্যুকুম্ভ” বলার প্রতিবাদে আজ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি পরিষদীয় দলের বিধায়কগণ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে ডেপুটেশন দেন । বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমত্রা পাল বলেছেন,’আমাদের দাবি, বিধানসভার রেকর্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বলা “মৃত্যুকুম্ভ” শব্দটি বাতিল করবে হবে এবং মমতা ব্যানার্জীর এই “হিন্দু বিরোধী” মন্তব্যের জন্য বাংলার জনগণের কাছে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।’ পরে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং এটা চলবে ।’ রাজভবনের ভিতরে প্রত্যেক বিজেপি বিধায়কদের হাতে ছিল “মহাকুম্ভের অপমান সইবে না হিন্দুস্তান” স্লোগান লেখা প্লাকার্ড।
শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রীর ‘নতুন হিন্দু সাজা’ বলে যে মন্তব্য করেছিলেন তার জবাবে বিরোধী দলনেতা পাল্টা আক্রমণ করে বলেন,লোকেরা বিরক্ত হলেও আপনি রেড রোডে অন্য ধর্মের লোকেদের প্রার্থনায় চলে যান। ভোট ব্যাংকের জন্য । আপনার মতলব সবাই জানে । আপনি কত বড় সাম্প্রদায়িক নন্দীগ্রামে দেখেছি । সেদিন আমি আপনাকে হিন্দুদের ভোটে হারিয়েছি এবং জিতেছি । তাই যাদের ভোট নিয়ে জিতেছে তাদের ধর্মে আঘাত, তাদের শাস্ত্র, তাদের ব্যবস্থায় আঘাত যদি সরকার বা সরকারি দল দেয় তাহলে প্রতিবাদ আমরা করব । আমরা বারে বারে বলেছি যে মুসলিমদের ভোটে আমরা জিতিনি । আমরা হিন্দু এবং জনজাতিদের ভোটে জিতেছি । স্বাভাবিকভাবে আমরা সনাতনী এবং জনজাতিদের কাছে দায়বদ্ধ । এটা নিয়ে কোন সাজাসাজির বিষয় নেই ।’।