এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),১৫ জুন : পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার রাধানগর গ্রামে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বুধবার রাতে । পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজের সম্পর্কীয় দাদাকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করল কলেজ পড়ুয়া ভাই । ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছে নিহতের মা । পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শেখ মনিরুদ্দিন(২৭) । এই ঘটনায় মৃতের খুড়তুতো ভাই শেখ সামিম (২০) ওরফে আনন শেখকে গ্রেফতার করেছে ভাতার থানার পুলিশ ।
জানা গেছে,রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা শেখ আতর আলির মেজ ছেলে শেখ মনিরুদ্দিন একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন । অন্যদিকে ঘাতক শেখ সামিম আতরের ভাই শেখ আনসার আলির ছোট ছেলে । সামিম বানিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র । আতর আলির পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করে তার ভাই শেখ আনসার আলি । বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই বিবাদ চলছিল বলে জানা গেছে ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে,বুধবার আতর আলির একটা চালাঘরের চাল ছাওয়ানোর কাজ চলছিল । সেই কারনে খড় ভেজানোর জন্য একটি পাইপে করে খড়ে জল দেওয়া হচ্ছিল । আর পাইপটি দুই বাড়ির মাঝের গলি দিয়ে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে ফের একপ্রস্থ অশান্তি বাধে । তানিয়ে শেখ মনিরুদ্দিন ও শেখ সামিমের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়েছিল ।
তারই জেরে মনিরুদ্দিন বুধবার রাত প্রায় নটা নাগাদ যখন বাড়ির বাইরে খামারে দাঁড়িয়ে ফোন করেছিল তখন সামিম তার পিছন থেকে এসে গলার ছুরি চালিয়ে দেয় । মনিরুদ্দিন নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় । এদিকে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মনিরুদ্দিনের মা জুবেদা বিবি । তিনি ছেলেকে বাঁচাতে গেলে সামিম তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় । জুবেদা বিবি নিচেতে পড়তেই শক্ত কিছুতে লেগে তার মাথা ফেটে যায় । এদিকে মনিরুদ্দিনের পেটে ছুরি দিয়ে একের পর এক কোপ বসাতে শুরু করে সামিম । শেষে জুবেদা বিবি ও মনিরুদ্দিনের আর্ত চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী শেখ সামিম পালিয়ে যায় । পরে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে ভাতার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয় । মনিরুদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে তৎক্ষনাৎ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় । কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মৃত্যু হয় তার । এদিকে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাতক শেখ সামিমকে এদিন সকালে গ্রেফতার করে পুলিশ । একজন কলেজ পড়ুয়ার এমন নৃশংসতা দেখে স্তম্ভিত এলাকার বাসিন্দারা ।।

